অন্তর্বর্তী সরকার অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে, যা ৩০ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, রপ্তানি আয়ের নিম্নগতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, এই সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ১১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২৮১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ফলে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ।
অক্টোবর মাসে ৩৫ হাজার ৬১৪ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৭২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা ৮ হাজার ৫৪১ কোটি টাকার ঘাটতি। আয়কর খাতে ঘাটতি হয়েছে ১৩ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা, আমদানি-রপ্তানি শুল্ক খাতে ৬ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা এবং ভ্যাট খাতে ১০ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা।
রাজস্ব ঘাটতির কারণে এডিপি বাস্তবায়ন গতি কমেছে। অর্থবিভাগ বাজেট বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রকল্প সংখ্যা সীমিত রাখা, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বরাদ্দহীন প্রকল্প বাদ দেওয়া।
অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, "সরকারি ব্যয়ে প্রাধিকার ঠিক করতে হবে। মূল্যস্ফীতি ও পণ্যমূল্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে।"
রাজস্ব ঘাটতির সঙ্গে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ এবং ডলার সংকট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ